বগুড়ার ধুনট থানায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মুঠোফোনে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর মায়ের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাবের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসে এবং তাঁকে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী একটি প্রতারক দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দালাল চক্র তাঁকে কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দেয়নি। এ বিষয়ে প্রবাসীর মা দালালদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উল্টো তিনি মারধরের শিকার হন। পরে গত ২১ জুন তিনি চিহ্নিত দুই দালালের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এসআই মোস্তাফিজার রহমান।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কথা বলার সূত্র ধরে এসআই মোস্তাফিজার রহমান প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি স্বামীর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার একপর্যায়ে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী নারী কৌশলে তাঁদের ওই কথোপকথন রেকর্ড করে রাখেন।
পরে অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই এসআই মোস্তাফিজারকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা বলেন, ‘এসআই মোস্তাফিজার রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি আমাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের আসামি দুই আদম ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট